1. multicare.net@gmail.com : সময়ের পথ :
বুধবার, ২৫ মে ২০২২, ০৪:০৫ পূর্বাহ্ন

কোম্পানীগঞ্জে মাদক ও চোরাচালানের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করা শাহআলম নামক যুবক খুন।

প্রতিবেদকের নাম:
  • প্রকাশিত: শনিবার, ১৪ মে, ২০২২
  • ১৬ বার পড়া হয়েছে

কোম্পানীগঞ্জে মাদক ও চোরাচালানের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করা শাহআলম নামক যুবক খুন।

 

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ কোম্পানীগঞ্জে সীমান্ত পথে অবৈধ মালামাল পাচারকারী তাজুল ও তাহার সহযোগীর হাতে এবার খুন হলেন শাহআলম। গত মঙ্গলবার রাত আনুমানিক ৯/১১ টার দিকে আমতল এলাকায় এ হত্যা কাণ্ডের ঘটনা ঘটে।

নিহত শাহআলম (৩৫) ২ নং পুর্ব ইসলামপুর ইউনিয়নের ১ নং ওয়ার্ডের নতুন জীবনপুর গ্রামের বীরমুক্তিযোদ্ধা ও সাবেক মেম্বার হাতেম আলীর ছেলে।

এব্যাপারে শাহআলমের পিতা বীর মুক্তিযোদ্ধা ও সাবেক মেম্বার হাতিম আলী ২৪ জন সহ অজ্ঞাত আরো ৪/৫ জনকে আসামি করে মামলা দায়ের করেন।

কোম্পানীগঞ্জ থানার মামলা নং-০৯ তারিখঃ ১৩/০৫/২০২২ইং ধারাঃ ৩০২/১০১, কোম্পানীগঞ্জ
জি,আর মামলা নং-১০১ তারিখঃ-১৩/০৫/২০২২ ইংরেজি

নিহতের বোন জামাই বাদল খন্দকার জানান, তাহার সমন্দি শাহআলমকে সন্ত্রাসী ও চোরাকারবারী তাজুল ইসলামসহ এজহারভুক্ত আসামী বিভিন্ন সময় হত্যার হুমকি দিয়ে আসছিল।

তিনি বলেন,শাহ আলম উল্লিখিত চোরাকারবারি ও মাদক ব্যবসায়ী তাজুল গংদের এসব সমাজ বিরোধী কার্যকলাপের প্রতিবাদ করাসহ বেশ কয়েকবার তাদের অবৈধ মাদকের চালান প্রশাসনের কাছে ধরিয়ে দেয়। তাদের অপকর্মের একটি বিরাট বাঁধা হয়ে দাঁড়ায় শাহআলম। এতে তাজুল গংরা তাহার উপর ক্ষিপ্ত হয়ে তাকে হত্যার পরিকল্পনা করে।

তারই প্রেক্ষিতে গত মঙ্গলবার মামলার এজাহার ভুক্ত ১,২,৬,৭,ও ৮ নং আসামী পুর্বপরিকল্পনামতো শাহআলম কে দিয়ে ডেকে নিয়ে যায় তাহার বাড়ী থেকে আনুমানিক ২ কিঃমিঃ দুরে আমেরতল গ্রামের ফুলমিয়া হাজীর বাড়ী। সেখানে দেশীয় অস্ত্র-শস্ত্র নিয়ে পুর্বে উৎ-পেতে ছিল আসামীসহ অজ্ঞাতরা। পরে তারা শাহআলমকে দেশীয় অস্ত্র-শস্ত্র দিয়ে বেদড়ক মারপিট করে বুকের বাম পাশে,কনুইয়ের উপর,কনুইয়ে,ও মাথায় ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাত করলে ঘটনাস্থল তাহার মৃত্যু হয়।

এব্যাপারে শাহ আলমের ভাইয়ের শ্বশুর তাজউদ্দিন জানান,ঐদিন রাত আনুমানিক ১ ঘটিকায় ইয়াকুব আলী তাহার চাচাতো ভাই সাজিদ কে ডেকে বলে নতুন জীবনপুর গ্রামের হাতিম আলী মেম্বারের ছেলে আলম কে মেরে লাশ নিয়ে চলে যাচ্ছে এখলাছ, তাজুল গংরা পরে সাজিদের ফোন মারফতে খবর পেয়ে কালা মিয়া আমাকে ফোন দিয়ে জানান তোমার পুতরা শাহ আলমকে এখলাছ তাজুলরা হত্যা করে লাশ গুম করার জন্য বাঁশের বেঁধে ঝুলিয়ে বর্ডার এলাকা দিয়ে নিয়ে যাচ্ছে তুমি খবর তার বাড়ীর লোকজনের কাছে পৌঁছাও এবং ঘটনাস্থলে আসো আমরা ও আসছি। আমি তাৎক্ষণিক আমার বেয়াইয়ের ফোনে কল দেই তিনি রিসিভ করেন নি,তারপর আমার পুতরার সেলিমের ফোনে কল দিলে সেও রিসিভ করে নি। পরে আমি ফোন দেই আমার ভাগনা রনীকাইল গ্রামের বাদশা মিয়াকে, সে ফোন রিসিভ করলে আমি বিস্তারিত জানাই। পরে আমরা সবাই দ্রুত আমরতল যাই। তখন সেখানে ইয়াকুব আলী ও আসে তাহার বর্ননা অনুযায়ী আমরা শাহ আলমকে খুঁজতে থাকি কিন্তু কোথাও তাকে পাওয়া যায়নি।

 

প্রত্যক্ষদর্শী ইয়াকুব আলী জানান,মামলার এজহার ভুক্ত ১ নং আসামী এখলাছুর রহমান ঘটনার দিন আমাকে ফোন দিয়ে বলে আমেরতল একজন চোর ধরা হয়েছে তাড়াতাড়ি আসো। আমি তখন সেখানে ছুটে যাই। এ সময় দেখি ঘটনাস্থলে ১৫ থেকে ২০ জন সন্ত্রাসীরা সহ উল্লিখিত চোরাকারবারিরা শাহ আলম কে মেরে বর্ডার সংলগ্ন এলাকায় দিয়ে বাঁশের মধ্যে ঝুলিয়ে নিয়ে যাচ্ছে।

আমি ভয়ে সেখান থেকে দ্রুত সরে গিয়ে তাহার আত্নীয়-স্বজনদের জানাই। তখন আমরা ফুল মিয়া হাজীর পুর্বে ঘরে তল্লাশি দিলে ঘরের ভিতর রক্ত ও রক্তমাখা কাপড়-চোপড় পাই। এতে নিশ্চিত হই শাহ আলমকে তারা প্রানে মেরে ফেলেছে।

এরপর প্রত্যক্ষদর্শী ইয়াকুব আলী এখলাছ কে ফোন দিলে সে জানায়,আমরা তাকে পল্লী চিকিৎসক দিয়ে চিকিৎসা করাচ্ছি বলে ফোন রেখে দেয়। পরে আর ফোনে তাকে পাওয়া যায়নি।

অবশেষে বুধবার সকালে আমরা কোম্পানীগঞ্জ থানার ডিউটি অফিসার শফিক কে ফোন দিলে তিনি ওসি তদন্তকে নিয়ে ঘটনাস্থলে আসেন। কিছুক্ষণ পরে ওসি সুকান্ত সেখানে গিয়ে বাড়ী তল্লাশি দেন। তখন ঘটনাস্থলে এখলাছের বৌকে পেয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করলে ঘটনার সত্যতা পান।

পরদিন ১১ মে বুধবার বিকেল ৪ ঘটিকায় প্রায় ২ কিঃমি দুরে হিংঙ্গিডুগী বিলের দক্ষিণে মাসুক মিয়ার ফিশারির পাড় সংলগ্ন পানির নিচে লাশ পুঁতে রেখে উপরে কাঠের বর্গা দিয়ে রাখা অবস্থায় পাওয়া যায়।

পরবর্তীতে পুলিশের হস্তক্ষেপ লাশ পানি থেকে তুলে সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজের মর্গে ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে প্রেরন করা হয়। এসময় ঘটনাস্হল থেকে এখলাছের স্ত্রীকে আটক করে থানায় নিয়ে আসা হয় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য।

 

এব্যাপারে কোম্পানীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি),সুকান্ত চক্রবর্তীর সাথে মুঠোফোনে (০১৩২০১১৭৯৯৫) যোগাযোগ করলে তিনি ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, পূর্ব শত্রুতার জের ধরে শাহআলম কে খুন করা হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

এব্যাপারে ঘটনাস্থল থেকে আছমা খাতুন নামক মহিলাকে আটক করা হয়েছ। শাহ আলমের পিতা হাতিম আলী বাদী হয়ে মামলা দায়ের করেন। বাকী আসামীদের কে গ্রেফতারের চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।

এবং তার মরদেহটি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে ময়না তদন্ত শেষে তার পরিবারের নিকট পৌঁছানো হয়। পরে বাদ মাগরিব লাশ দাফন সম্পন্ন হয়।

সংবাদটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরো সংবাদ পড়ুন

আরো লেখাসমূহ

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত
প্রযুক্তি সহায়তায় ইয়োলো হোস্ট