1. multicare.net@gmail.com : সময়ের পথ :
বুধবার, ২৫ মে ২০২২, ০৫:০২ পূর্বাহ্ন

শিক্ষিত সমাজে মানবতার আজ মৃত্যু হয়েছে।

প্রতিবেদকের নাম:
  • প্রকাশিত: শুক্রবার, ৮ এপ্রিল, ২০২২
  • ৩৫ বার পড়া হয়েছে

শিক্ষিত সমাজে মানবতার আজ মৃত্যু হয়েছে।
সানজিদ মাহমুদ সুজন,জেলা প্রতিনিধী শরীয়তপুর।

ইট পাথরের দুনিয়ায় মানবতা আজ লুণ্ঠিত। এই সভ্যতার প্রকৃতির দিকে তাকালে মনে হয় প্রকৃতি আজ আমাদের মানব জাতির কাছ থেকে মুখ ফিরিয়ে নিয়েছে। মানবজাতির কর্মের কারণে প্রকৃতি আজ মানুষের প্রতিকূলে চলে গেছে। প্রকৃতি আজ সময়ে অসময়ে ধ্বংসের বার্তা নিয়ে আসে। আধুনিক যান্ত্রিক সভ্যতার দু পা বিশিষ্ট মানবজাতির মধ্যে সততা মানবতা নেই বললেই চলে। বেশির ভাগেই শুধু নিজেকে নিয়েই ব্যস্ত। শুধু চাওয়া আর পাওয়া। পিতা-মাতার কাছে সন্তান নেই কোনো নিরাপত্তা। সন্তানের কাছে পিতা-মাতা নেই কোনো নিরাপত্তা। আর বাকিদের কথাটাই বুঝে নিবেন। কারণ বিশ্বে মহামারী করোনা কালীন সময়ে মানব জাতিকে বুঝিয়ে দিয়েছে এই পৃথিবীতে কেউ কারোর নয়। শত কষ্টের মাঝেও পিতা মাতা সন্তানদের মানুষ করার চেষ্টা করে। তারা না খেয়ে সন্তানদের খাইয়ে-পরিয়ে বড় করে তোলে। সেই সন্তানেরা বড় হয়ে বৃদ্ধ বয়সে রাখে না বাবা-মার খোঁজ। বৃদ্ধ বয়সে বাবা মা হয়ে যায় যেন সন্তানদের কাছে মস্ত বড় বোঝা। এমনই একটি উদাহরণ ,শরীয়তপুর ডামুড্ডা উপজেলার একটি পরিত্যাক্ত ভবন থেকে ৭৫ বছর বয়সে বৃদ্ধ পিতার পচা মরদেহ উদ্ধার করা হয়।।

শরীয়তপুর ডামুড্যা উপজেলার চত্বরের কাছাকাছি একটি পরিত্যক্ত ভবনের ভেতর থেকে ওমর আলী সিকদার (৭৫)নামে পচা অর্ধগলিত মরদেহ উদ্ধার করা হয়।। ৬এপ্রিল২০২২ সন্ধ্যা ৬ টার দিকে ডামুড্যা উপজেলার কাছাকাছি ওই পরিত্যাক্ত ভবন থেকে পচা মরদেহ উদ্ধার করা হয়। ঘটনাস্থল থেকে জানা গেছে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা ছয়টা টার দিকে ওই এলাকার কয়েকজন ছেলে ওই ভবনে মধুর বাসা কাটতে গেলে ওই ভবন থেকে পচা দুর্গন্ধ বের হয়। ওই ছেলেরা ভবনের ভিতরে গেলে দেখতে পায় পচা গলিত অবস্থায় একটি মরদেহ পড়ে আছে। বিষয়টি ওই এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে ডামুড্ডা থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে ওই বৃদ্ধের পচা মরদেহ উদ্ধার করে শরীয়তপুর সদর হাসপাতালে পাঠিয়ে দেন ময়না তদন্তের জন্য।
ডামুড্ডা থানার পুলিশ কর্মকর্তা স্থানীয়দের সহায়তায় নিহত ওমর আলী শিকদার এর পরিচয় শনাক্ত করতে সক্ষম হয়। নিহত ওমর আলী শিকদার (৭৫) ছিল ডামুড্ডা পৌরসভার ২নং ওয়ার্ডের ঠেঙ্গা বাড়ির মৃত ছমির আলী সিকদারের পত্র। নিহত ওমর আলী সিকদারের দুই ছেলে তিন মেয়ে রয়েছে। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে সন্তানদের অবহেলা আর অযত্নে তাদের আচার-ব্যবহারে কষ্ট পেয়ে মানুষের কাছ থেকে চেয়ে জীবন ধারন করে একটি পরিত্যক্ত ভবনে রাত্রি যাপন করত। ছেলেমেয়ে কেউ এই ওমর আলী সিকদারের খোঁজখবর নিত না। স্থানীয়দের ধারণা ওই পরিত্যক্ত ভবনের ভিতরে অসুস্থ অবস্থায় ২০ থেকে ২৫ দিন পূর্বে এই বৃদ্ধ ওমর আলী সিকদার এর মৃত্যু হয়। এখানে দীর্ঘদিন থাকার কারণে এই মরদেহ পচতে শুরু করেছে।
নিহত ওমর আলী সিকদারের পুত্র নাসির সিকদার গণমাধ্যমকে সত্য স্বীকার করে বলেন আমাদের অযত্ন অবহেলা কারণে আমার বাবার এই পরিণতি হয়েছে। আমাদের ব্যবহারের কারণেই বাবা আমাদের কাছে থাকতে চাইতো না। বাবাকে অনেক খোঁজাখুঁজি করেছি।বাবাকে যখন পেলাম তখন পচা অর্ধ গলিত অবস্থায়।
ডামুড্ডা থানার অফিসার ইনচার্জ শরীফ আহমেদ গণমাধ্যমকে জানান স্থানীয়দের সহায়তায় সন্ধ্যা ছয়টার দিকে পচা অর্ধ গলিত অবস্থায় মরদেহ পরিত্যাক্ত ভবন থেকে উদ্ধার করি। ওই মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য শরীয়তপুর সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠায়। একটি অপমৃত্যু মামলা হয়েছে।
শরীয়তপুর সদর হাসপাতালে তত্ত্বাবধায়ক ডাক্তার আব্দুস সুবহান গণমাধ্যমকে বলেন ঘটনাটি শুনেছি বিষয়টি অত্যন্ত দুঃখজনক স্পর্শ কাতর। পচা অর্ধগলিত যে লাশটি পাওয়া গেছে, ওই ব্যক্তি মারা গেছে ২০থেকে ২৫ দিন পূর্বে। সন্তান বেঁচে থাকতে পিতা-মাতার এমন করুণ পরিণতি হবে এটা মেনে নেওয়া যায় না। এসব কুলাঙ্গার সন্তানদের দৃষ্টান্তমূলক বিচারের আওতায় আনা উচিত।

সংবাদটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরো সংবাদ পড়ুন

আরো লেখাসমূহ

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত
প্রযুক্তি সহায়তায় ইয়োলো হোস্ট