1. multicare.net@gmail.com : সময়ের পথ :
শনিবার, ০১ অক্টোবর ২০২২, ০৪:১৩ পূর্বাহ্ন
ব্রেকিং নিউজ :
সমাবেশে লাঠিসোঁটা বা দেশীয় অস্ত্র আনা যাবে না – ডিএমপি মাননীয় প্রধানমন্ত্রী দেশরত্ন শেখ হাসিনার ৭৬তম জন্মদিন উপলক্ষে বাঞ্ছারামপুরে কেক কেটে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ৭৬তম জন্মদিন পালিত। বঙ্গবন্ধু কন্যা, দেশরত্ন শেখ হাসিনার ৭৬’তম জন্মদিন কুষ্টিয়ায় ডায়াগনস্টিক সেন্টার ভাংচুর করলো ছাত্রলীগ নড়াগাতীতে নিকাহ্ রেজিষ্ট্রার না হয়েও বিয়ে পড়ান মাদ্রাসা শিক্ষক ৭কোটি টাকার ইয়াবা চালানসহ ২সহযোগী আটক-র‌্যাব-৭ জালিয়াতি ব্লাঙ্কচেক মিথ্যা মামলা’র প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন বঙ্গবন্ধু’র দেশে সাম্প্রদায়িক গোষ্ঠীর ঠিকানা হবে না…বাবর নির্মম-নৃশংস যুবলীগ কর্মী’র হত্যাকারী ৩জন আটক-র‍্যাব-৭

৩০ বছর পর অসহায় দু’বোনের জমি উদ্ধার।

প্রতিবেদকের নাম:
  • প্রকাশিত: রবিবার, ৩ এপ্রিল, ২০২২
  • ৪০ বার পড়া হয়েছে

৩০ বছর পর অসহায় দু’বোনের জমি উদ্ধার।
চট্টগ্রাম প্রতিনিধি।

চট্টগ্রাম নগরীর পশ্চিম মোহরা,শহরআলী ডাক্তার বাড়ী ৯৫বছর বয়সী বৃদ্ধা মফিজুর রহমানের ছেলেসন্তান না থাকায় একমাত্র উত্তরঅধিকারী অসহায় নিরুপমায় অভিভাবকহীন দু’মেয়ের জমি নিয়ে নিজ চাচাত ভাইয়ের সঙ্গে সঠিক অংশবন্টন ও মালিকানা শর্তে বিরোধের জেরে সংযোগ গ্যাস সরবরাহে বেআইনি ভাবে বাঁধা,নানা সরযন্ত্র মিথ্যা অভিযোগ,বাধা-বিঘ্নতা বিপত্তি,খতিয়ান ভুল,অশুদ্ধ,জটিলতায় দীর্ঘ ৩০বছর পর আদালতের নির্দেশে প্রকশ্য দিবালোকে জনসম্মুখে অবশেষে উদ্ধার হলো ২৬শে মার্চ স্বাধীনতা দিবসে। যা সুষ্ঠু নিরপেক্ষ সার্ভেয়ার আমিনের মাপজরিপে জমির হার অংশ বন্টনে সমান অনুপাতে সঠিক পরিমাণে অংশ ও সীমানা নির্ধারন করা হয়।এবং নিরাপদে স্থায়ী দখল নিশ্চিতে উক্ত জায়গায় সাইনবোর্ডও স্থাপন করা হয়।

জানা যায়,উত্তরাঅধিকাের সুত্রে ও মালিকানা শর্তে পাওয়া জমির মালিক আক্তার বেগম ও নাছরিন আক্তার দু’বোনের জমির ভাগের অংশ হিসেবে মাত্র ৩ কড়া অংশটি নিয়ে বৃদ্ধার ভাতুষ্পুত্র গংদের সাথে দীর্ঘ ৩০ বছর ধরে বিরোধ চলে আসছিল। এবং অসহায় দু’বোনের দাবি তার চাচাত ভাই গংদের দ্বারা পূর্বে থেকে ও আরও সম্পত্তি থেকে বঞ্চিত সহ বিভিন্নভাবে ব্যাপক আর্থিক ও অহেতুক নানান বাধাবিঘ্নতা,বিরোধে হয়রানি করে আসছিল বলেও দাবি করে।

জানা যায় ভুক্তভোগী মফিজুর রহমানের জেঠাতো ভাই আলী আহমদ দলিলপত্র গোপন করে নিজের নামে বিএস করে নেয়। মালিক না হওয়া সত্বেও গায়েরজোরে নানা কলাকৌশলে,দলিল,আদালত ও আইনের জটিলতায় তারা জমিটি দখল করার চেষ্টায় ব্রত থাকে বেআইনিভাবে দীর্ঘ দিন ধরেই। এবং শুধু তাই নয় ৩/৪ বার জমিটি বিক্রিও করেছে বলেও জানা গেছে। এ জমির অংশ মালিকানা নিয়ে একাধিক সামাজিক বিচার থানা পুলিশ কোর্টে কাছে অভিযোগ করেও প্রতিপক্ষের দ্বারা গায়েরজোরে ক্ষমতার অপপ্রয়োগ ও অহেতুক হয়রানি আগ্রাসন অশুভনীয় আচরণ করে বলে জানায় ভুক্তভোগী।

বৃদ্ধার বড় মেয়ে সাংবাদিকদের কাছে জমি বিরোধকান্ডে অভিযোগ করে বলেন,আমাদের লোকবল,দেখার মত কেউ নেই,তারা ইতিপূর্বেও নানান ছলছাতুরী করে আমাদের জমি,ও অন্যান্যাভাবে আমাদের ক্ষয়ক্ষতি করে আসতেছে। আমাদের বঞ্চিত ও নানান কায়দায় অকৌশলে ও মিথ্যা মৌখিক অভিযোগে কেড়ে নিয়েছিল ভূয়া মালিকানা সত্বে। আমার বাবা কখনো কোন জমি বিক্রি করেনি,কেনইবা করবে আমার বাবা দীর্ঘ ৩০ বছর সুদূর বিদেশে ছিল। তাছাড়াও আমাদের পরিবারে এমন কোন আর্থিক সংকট সমস্যা ছিলো না যে,জমি বিক্রি করতেই হবে। এছাড়াও তাদের কাছে উল্লেখযোগ্য কোন প্রকারের কাগজপত্রও নেই।

শুধুমাত্র তারা ক্ষমতার জোরে আমাদের জমি আমাদের কাছ থেকে ছিনিয়ে নেওয়ার পায়তারায় সক্রিয় ছিল এখনো পর্যন্ত নানাভাবে অপকৌশল চালাচ্ছে। আমাদের কোন ভাই নেই,তাই আমরা আজ অসহায়। বিষয়টি মানবিক বিবেচনায় নিয়ে প্রশাসন ও সামাজিক সুদৃষ্টির হস্তক্ষেপ কামনা করছি। ভুক্তভোগী পরিবারের ভাষ্যমতে,৩০বছর ধরে তাদের পৈতৃক সম্পত্তি চাচাতো ভাই গংদের কুনজরের জেরে এবং মৌখিক ও গায়ের জোরে ঠুনকো ক্রয়সূত্রে ভূয়া মালিকানা দাবি করে জমি দখলের নীল নকশার ছক আঁকেন। অতচ জমিটির প্রকৃত দাবীদার বা মালিকানা বিষয়টি নিশ্চিতের জন্য আদালতের সরণাপন্ন হই।এরই ধারাবাহিকতায়
আদালত বিষয়টি আমলে নিয়ে দীর্ঘ ৪ বছর পর আমাদের জমি আমাদের পক্ষেই রায় প্রদান করলে মৌখিকভাবে এলাকাবাসীদের ও থানায় পুলিশকেও অবহিত করি যাতে প্রতিপক্ষগং দ্বারা যাতে আপত্তি বাঁধা নিষেধ হতে বিরতি ও কোনরূপ নেতিবাচক প্রশ্ন কিংবা সমালোচনা না হয়।

কিছুদিন আগে জমির মালিক বাদী পক্ষের বড় বোনের জামাতার নামে বিববাদী পক্ষের কেয়ারটেকারকে মারধরের শিকার,মিথ্যা,হয়রানি ও সরযন্ত্রমূলক,মিথ্যতথ্যে,অভিযোগে,যা পরবর্তীতে থানা পুলিশের উপস্থিতিতে অভিযোগটি সম্পূর্ণ মিথ্যা,বানোয়াট,ভূয়া,সম্পত্তির জেরে পূর্বপরিকল্পিত উদ্দেশ্যে প্রনোদিত,হয়রানিমূলক অভিযোগ বলেও বিবেচিত ও প্রমাণিত হয়। ভুক্তভোগী দুবোনের বড় বোনের জামাতা জানান,আমার স্ত্রীর চাচাতো ভাইয়েরা বেআইনিসত্বেও এর আগেও এ জমি কয়েকবার বিক্রি করেছিল এবং আমাদের জমির যাবতীয় কাগজপত্রাদি তাদের কাছে জমা রয়েছে। আমার নামে নিছক,মিথ্যা,অযথা হয়রানিমূলক মারধরের অভিযোগও করেছিল। ২০১৮ এর আগে বিষয়টি নিয়ে কেন আদালতের সরনাপন্ন হননি এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন,আমরা মনে করেছিলাম,সামাজিক শালিসি বৈঠকের সিদ্ধান্তে তারা মেনে নেবে কিন্তু না তারা আরও বেপোরাওয়া হয়ে উঠতে লাগলো যা পরবর্তীতে আদালতে সরনাপন্ন হলাম।

এ ব্যাপারে দু’বোনের চাচাতো ভাই গংদের মোহাম্মদ ইউছুফ পিতা-মৃত আলী আহমদ বলেন-জায়গাটার গোড়াতে আমার দাদারা দুই ভাই ছিল। ভাইয়ের জায়গা ভাই বিক্রি করেছে পরিমাণের চেয়ে বেশি।ওরা ১টা আরএস খতিয়ান ধরে এটি একতর্ফা রায় নিয়েছে,ওদের রায় এটা হয় নাই,ওরা পাইলেও ঠিক না থাকলে ধরে রাখতে পারবে না দিয়ে ফেলতে হবে।আমি জন্ম থেকেই দেখেছি আমার আব্বা উক্ত জমিতে ধান রোপণ করেছে।জমিটি আমার আব্বা বোনকে দিয়ে দিয়েছে। আমরা কখনও কারো জমির মালিকানা অংশে অন্যায়,বেআইনিভাবে হস্তক্ষেপ করিনি। ওই জমি সংক্রান্তে খরিদাসূত্রে মালিক জমিটির অংশের মালিকানা সত্বে আমরা আইনি হস্ত ক্ষেপে জবাব দিব আর এটি একতরফা রায় আমাদের মালিকানা সত্বে দ্রুতই আদালতে আপিল করব।আদালতের নির্দেশকে আমি সম্মান করি। আইনকে সম্মান করে তাই কেউ কিছু বলতেছেনা।

আরেক চাচাতো ভাইগং মোহাম্মদ জহুর আলম পিতা- মৃত সালেহ আহমদ বলেন- কোর্টের মামলায় আদালতে যেটা রায় দিয়েছে সেটাই হবে।আমি এর বাহিরে বুঝিনা। আর রায়ের উপর আমার কোন আপত্তি নেই।সেখানে আমিও একজন অংশীদার আমিও বঞ্চিত ছিলাম আমার আব্বাকেও বঞ্চিত রেখে ছিল। কাগজে জায়গায় থাকলে কেন দিবে না এতে যদি কেউ আপত্তি,বাঁধা,হুমকি দেয় আদালতের রায়কে অগ্রায্য করে আইনি প্রকৃয়ায় আগাতে হবে।

মোহাম্মদ নাছের-পিতা মৃত নুর আহমদ বলেন- এটা কোর্টের মামলায় আদালতে থেকে রায় পাইছে আমার চাচাতবোন। দন্দ হচ্ছে আলী আহমদের ছেলেদের সাথে। চাচাত বোনের কারণে আজ আমরাও উক্ত জমির অংশ পাব। আমার বাপের ভাইয়ের সম্পত্তি আমার চাচাতবোন যদি ফিরে পাই তাহলে কেন আপত্তি করব,দাদার সম্পত্তি চাচা পাবে কেনই বা খুশি থাকবনা।

তাও আবার এত বছর পর ফিরে পেয়েছি।

এ বিষয়ে প্রতিবেশী জানি আলম জিকু বলেন,মফিজুর রহমান অত্যান্ত বিনয়ী,অমায়িক,ভদ্রমানুষ সম্পর্কে আমার মামা হয়। জায়গাটি নিয়ে একাধিক পক্ষের মাঝে বিরোধ থাকায় তিঁনি ও মেয়ে দীর্ঘদিন যাবৎ বঞ্চিত ছিলেন।মালিকানা ও আইনী জটিলতায় এখনো পর্যন্ত খলি রয়েছে,কোন পক্ষই এককভাবে কিছুই করতে পারছে না। আরেক প্রতিবেশী আলমগীর চৌধুরী বলেন- আইনের আওতায় সমাধানে প্রকৃত মালিক জায়গা ফিরে পেলে এলাকার দীর্ঘসময় ধরে বিবাদমান বিরোধের সমাধান হবে যা সকলের কাম্য।

এ বিষয়ে স্থানীয় ৫নং মোহরা ওয়ার্ড কাউন্সিলর কাজী নূরুল আমিন বলেন- বিষয়েটি আমাকে কেউ কিছু বলেনি,জানায়ওনি অভিযোগও করেনি আমার নলেজে নাই।আইনীভাবে যদি কেউ পেয়ে থাকে অবশ্যই ভাল কথা।এখানে আদালতের উপরে কারওই বাঁধা-আপত্তি সামাজিক,আমার কিংবা কারোই কিছু করার নাই।আামার এলাকা বিশাল আর কেউ আমাকে এ ব্যাপারে জানায়ওনি কোন সময়ে।যেহেতু আইনের বিষয় থানা পুলিশকে জানায়ে করাই ভাল।

দলিল লেখক ও সার্ভেয়ার মোঃ নুউদ্দীন মামুন বলেন, মালিকানা সংক্রান্তে দলিল,সত্ব শর্তে আমি কিছু বলতে পারব না,তবে আমি সুষ্ঠু নিরপেক্ষ সার্ভেয়ার আমিনের মাপজরিপে জমির হার অংশ বন্টনে সমান অনুপাতে সঠিক পরিমাণে অংশ ও সীমানা নির্ধারন করা হয়েছে। যা আমি নিজ উপস্থিতিতে নিরপেক্ষ সক্রিয় ভাবেই দায়িত্ব পালন করেছি।

অবশেষে সকল শতবাধা বিপত্তি আর আশা,নিরাশা,হতাশা কাটিয়ে মহামান্য আদালতের রায়ে জমি ফিরে পেয়ে প্রতিপক্ষের শতআপত্তি,বাঁধাবিঘ্নতা হতে নিষ্কৃতি পেয়েছে স্বাধীনতার মাসে স্বাধীনতা দিবসেই।যার সন্তুষ্টি ও আনন্দ প্রকাশ করে সস্তির নিশ্বাসে স্বতঃস্ফূর্ত অনুভূতি প্রকাশ করেন ভুক্তভোগী।আর ভবিষ্যতেও যাতে প্রতিপক্ষের ছোবলে পড়তে না হয় এমনটিই আশা করেছেন অভিবাবকহীন এ অসহায় পরিবারটি।এছাড়াও প্রতিপক্ষের দ্বারা ভবিষ্যতেও যাতে তাঁরা অহেতুক হয়রানি আগ্রাসনের স্বীকার হতে না হয় সেই প্রশ্নে প্রতিবেশী,সমাজ,এলাকাবাসী,
জনপ্রতিনিধিসহ প্রশাসনের সুদৃষ্টি ও হস্তক্ষেপ কামনা করেন।

উল্লেখ্যঃ তফশীলোক্ত আর এস ৪০২৩ দাগের ৬ শতক ভুমিতে আলামিয়া ৩ শতক সাহেব মিয়া ৩ শতক প্রাপ্ত হন। সাহেব মিয়া ৩ শতক তিনি মরনে ২ পুত্র নুর আহমদ ও মফিজুর রহমান প্রত্যকে ১.৫০ শতক করে প্রাপ্ত হয়। বাদী উক্ত ১.৫০ শতকে ভোগদখলে আছেন।কিন্তু বিএস জরিপে নালিশী ভূমি এই বাদীর নামে জরিপ না হয়ে সত্ব দখলহীন বিবাদীর নামে জরিপ হয়েছে।বাদী নালিশী ভূমিতে স্বত্ব ঘোষণা এবং নালিশী ভূমিসংক্রান্তে প্রচারিত বিএস খতিয়ান ভুল ও অশুদ্ধ মর্মে ঘোষণার প্রার্থনায় অত্রআনায়ন করেছেন। এবং ২১/০৩/২০১৮ইং মোকদ্দমা রুজু হয়।বিবাদী পক্ষের জাহানারা বেগম জবানবন্দি দিয়েছেন এবং তাহাদের দাবির সমর্থনে কোন কাগজপত্র দাখিল করেন নাই। বাদীপক্ষের আমমোক্তার আক্তার বেগমPW1 এবং দখল বিষয়ে নুরুল ইসলাম PW2 হিসেবে স্বাক্ষ্য করে।বিবাদীপক্ষে জাহানারা বেগম জবানবন্দি দিয়েছেন কিন্তু তাহাদের দাবির সমর্থনে কোন কাগজপত্র দাখিল করেন নাই।সার্বিক আলোচনার প্রেক্ষিতে বলা যায় যে বাদীপক্ষ নালিশি ভূমিতে তাহার স্বত্ব ও দখল যথাযথভাবে প্রমাণে সমর্থ হয়েছেন।
উক্ত সকল বিবেচ্য বিষয়াদী বিচার্যবিষয় বাদীর অনুকূলে নিষ্পত্তি করা হয়। মোকদ্দমা বিবাদীর বিরুদ্ধে দুতরফা সূত্রে এবং অপরাপর বিবাদীর বিরুদ্ধে একতরফা সূত্রে বিনা খরচে ডিক্রি প্রধান হলো সিনিয়র সহকারী জজ ৫ম আদালত।

সংবাদটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরো সংবাদ পড়ুন

আরো লেখাসমূহ

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত
প্রযুক্তি সহায়তায় ইয়োলো হোস্ট