1. multicare.net@gmail.com : সময়ের পথ :
শনিবার, ২১ মে ২০২২, ০৮:৩৫ পূর্বাহ্ন
ব্রেকিং নিউজ :
রাষ্ট্রপতি-প্রধানমন্ত্রীর শোক গাফফার চৌধুরীর মৃত্যুতে ভোরের কাগজের প্রকাশক ও সম্পাদকের বিরুদ্ধে মামলায় আমেরিকান প্রেসক্লাব অব বাংলাদেশ অরিজিন-এর নিন্দা জীবন দিয়ে হলেও মদের আইন বাতিল সহ ১৫ দফা দাবি আদায় করবো লামায় সমাজের সর্দার নির্বাচিত হয়েছে ওয়ার্ড যুবলীগ সভাপতি ইয়াছিন লক্ষ্মীপুরে অষ্টম শ্রেণির স্কুলছাত্রী অপহরণ, গ্রেপ্তার ১ রামগড়ে বিপজ্জনক মরাগাছ কেটে বিপাকে পাউবো কমর্চারি লক্ষ্মীপুরের ১৬০০ টন গম নিয়ে ডুবে গেল জাহাজ পুলিশের কব্জি বিচ্ছিন্নকারী নৃশংস কুখ্যাত সন্ত্রাসী আটক-র‍্যাব-৭। হরিণাকুণ্ডুতে সরককারী আবাসনে গোলোযোগ ৯ জন আহত হরিণাকুণ্ডুতে আবাসনের পুকুরে মাছ ধরাকে কেন্দ্রকরে ৯ জন আহত

ট্রাকচাপায় ৫জন নির্মমমৃত্যু,ঘাতক ড্রাইভার ১৮ঘন্টায় আটক।

প্রতিবেদকের নাম:
  • প্রকাশিত: বুধবার, ২৩ মার্চ, ২০২২
  • ২৪ বার পড়া হয়েছে

ট্রাকচাপায় ৫জন নির্মমমৃত্যু,ঘাতক ড্রাইভার ১৮ঘন্টায় আটক।
মোহাম্মদ মাসুদ চট্টগ্রাম।
নিয়ন্ত্রণহীন ট্রাকচাপায় ০৫ জন মেধাবী ছাত্রকে নির্মম ও নৃশংসভাবে নিহতের ঘটনায় শারীরিকভাবে অযোগ্য ও অর্ধপঙ্গু এবং লাইসেন্সবিহীন ঘাতক ড্রাইভার ১৮ ঘন্টার মধ্যে র‌্যাবের হাতে আটক।
গত ২১ মার্চ ২০২২ইং তারিখ আনুমানিক ভোর ০৫৩০ ঘটিকায় একটি প্রাইভেটকার যোগে ৫ জন ছাত্র-বন্ধু চট্টগ্রাম থেকে কক্সবাজার যাচ্ছিলো। যাওয়ার পথে প্রাইভেটকারটি চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কের আধুনগর নামক স্থানে পৌছালে রাস্তার বিপরীত দিক থেকে বেপরোয়া গতিতে আসা একটি ডাম্পার ট্রাকের সাথে মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। সংঘর্ষে প্রাইভেটকারে থাকা পাঁচজনের মধ্যে চারজনই ঘটনাস্থলেই নির্মমভাবে মারা যান এবং গুরুতর আহত অবস্থায় আহত আরো একজন হাসপাতালে মৃত্যুবরণ করে। উক্ত ঘটনাটি প্রিন্ট ও ইলেট্রিক মিডিয়াসহ সারাদেশে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করে।

ঘটনাটি সংগঠিত হওয়ার পর ট্রাক ড্রাইভার মোঃ রিপন ঘটনাস্থল হতে পলায়ন করে এবং আত্মগোপন করে। র‌্যাব-৭, চট্টগ্রাম উক্ত ডাম্পার ট্রাক ড্রাইভারকে গ্রেফতারের লক্ষ্যে গোয়েন্দা নজরধারী চালায়। নজরদারীর এক পর্যায়ে র‌্যাব-৭, চট্টগ্রাম জানতে পারে ঘাতক ডাম্পার ট্রাক ড্রাইভার রিপন চট্টগ্রাম মহানগরীর ডবলমুড়িং থানাধীন রশিদ বিল্ডিং এলাকায় আত্মগোপন করে আছে। অদ্য ২২ মার্চ ২০২২ খ্রিঃ ০৩.৩০ ঘটিকায় র‌্যাব-৭, চট্টগ্রামের একটি আভিযানিক দল বর্ণিত এলাকা হতে ঘাতক ঘাতক ট্রাক ড্রাইভার মোঃ রিপন (৩১), আটক করে। পরবর্তীতে জিজ্ঞাসাবাদে সে ঘাতক ট্রাক (রেজিঃ নং-চট্ট মেট্টো-ট-১২-০৩১৫) এর চালক ছিল বলে স্বীকার করে। গ্রেফতারকৃত ড্রাইভার রিপনকে জিজ্ঞাসাবাদে আরও নিম্নেবর্ণিত তথ্যাবলী পাওয়া যায়ঃ

ডাম্পার ট্রাকটির ড্রাইভার মোঃ রিপন (৩১) ২০০৪ সালে চট্টগ্রাম আসে এবং নিমতলা বিশ্বরোডে বসবাস শুরু করে। প্রথমে সে গাড়ীর হেলপার হিসেবে জীবিকা নির্বাহ শুরু করে। ২০০৪ সাল হতে ২০১৫ সাল পর্যন্ত সে গাড়ীর হেলপার হিসেবে দায়িত্ব পালন করে। ২০০৬ সালে হেলপার থাকা অবস্থায় গাড়ী চালানোর দরূণ সে মারাত্মক দূর্ঘটনায় পতিত হয়। এতে তার ডান পা পঙ্গু হয়ে যায় এবং উক্ত পায়ে প্রায় সম্পূর্ণ শক্তি হারিয়ে ফেলে।

২০১৫ সালে তার আবেদনের প্রেক্ষিতে বিআরটিএ হতে হালকা যানবাহনের লাইসেন্স পায় এবং পঙ্গু অবস্থায় গাড়ী চালনার দরুন সে অনেকগুলো দূর্ঘটনায় পতিত হয়। পরবর্তীতে ভারী যানবাহনের আবেদন করলে তার শারীরিক অযোগ্যতার কারণে বিশেষ করে ডান পা পঙ্গুত্ব ও শক্তি হারানোর প্রেক্ষিতে তাকে লাইসেন্স প্রদান করা হয় নাই। তবু সে নিয়মিত ভারী যানবাহন নির্বিঘ্নে চালিয়ে যাচ্ছে, যার ফলে অত্যন্ত করুণ ও নির্মমভাবে চলে গেল পাঁচজন তরতাজা যুবকের প্রাণ, যাদের বয়স এখোনও ত্রিশের কোটায়।

ঘটনার দিন উক্ত ডাম্পার ট্রাকের মূল চালক ছিল ড্রাইভার মোঃ নুরনবী। সেদিন নুরনবী উক্ত গাড়িটি নিয়ে কক্সবাজার জেলার পেকুয়া মেরিন ড্রাইভ ও ফোর লেইনের চলমান সড়ক নির্মানের পাথর বোঝাই করে নেওয়ার কথা ছিলো। কিন্তু নূরনবী টানা ১০দিন নির্ঘুম থেকে গাড়ী চালানোর কারণে ক্লান্ত থাকায়, উক্ত গাড়ী চালানোর দায়িত্ব মালিকের অনুমতি সাপেক্ষে পরিবর্তন করে বদলীকৃত ড্রাইভার মোঃ রিপনকে দেওয়া হয়।

রিপন এই কোম্পানীর উক্ত ভারী ডাম্পার ট্রাক চালানোর স্থায়ী কোন ড্রাইভার নয় বা এই ধরনের গাড়ী চালানোর জন্য ভারী লাইসেন্স অথবা পূর্ব অভিজ্ঞতা না থাকা সত্ত্বেও তাকে গাড়ী চালাতে দেওয়া হয়। অতঃপর সে গাড়িটি নিয়ে পেকুয়ায় মেরিন ড্রাইভ ও ফোর লেইনের সড়ক নির্মাণের পাথর আনলোড করে আসার সময় লোহাগাড়া থানাধীন আধুনগর বাজারে পৌছালে অত্যন্ত বেপরোয়া ও নিয়ন্ত্রণহীনভাবে অপর প্রান্ত হতে নিয়মিত গতিতে আসা প্রাইভেটকারকে সজোরে ধাক্কা দেয়। প্রথম ধাক্কায় প্রাইভেটকারটি থেমে গেলেও ট্রাক ড্রাইভার রিপন এর ডান পায়ের পঙ্গুত্ব ও শক্তি কম থাকায় সে ব্রেক করতে পারেনি এবং প্রাইভেটকারের উপর ট্রাকটি সম্পূর্ণ উঠে যায়। এতে ঘটনাস্থলেই হারুনুর রশিদ হীরণ (২৬), খোরশেদ আলী সাদ্দাম (৩১), রিজভী শাকিব (২৬) এবং মনছুর আলী (২৩) মারা যান এবং গুরুতর আহত মুহাম্মদ হুমায়ুন (২৫) হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যু বরণ করে।

এখানে অত্যন্ত লক্ষণীয় যে, উক্ত গাড়ির কোন হেলপার ছিল না এবং গাড়িটি অত্যন্ত বেপরোয়া গতি এবং নিয়ন্ত্রণহীন ছিল। দূর্ঘটনার সময় গাড়িটি (কক্সবাজার হতে চট্টগ্রামের দিকে আসতে) রাস্তার বাম পাশে থাকলেও সেটি নিয়ন্ত্রণহীনভাবে ডান পাশে চলে যায়। ট্রাকের ড্রাইভার শারীরিকভাবে অযোগ্য, ডান পায়ে শক্তি প্রায় নেই। সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য, এই ধরনের ডাম্পার ট্রাকের মতো ভারী যানবাহন চালানোর মত কোন ড্রাইভিং লাইসেন্স বা অভিজ্ঞতা কিছুই তার নেই। মহাসড়কপথে ড্রাইভারদের এই ধরনের অনভিজ্ঞতা, অবহেলিত ও খামখেয়ালিপূর্ণ আচরণ প্রতিনিয়ত কেড়ে নিচ্ছে অসংখ্য প্রাণ।

গ্রেফতারকৃত আসামী সংক্রান্তে পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহনের নিমিত্তে সংশ্লিষ্ট থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরো সংবাদ পড়ুন

আরো লেখাসমূহ

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত
প্রযুক্তি সহায়তায় ইয়োলো হোস্ট