1. multicare.net@gmail.com : সময়ের পথ :
বুধবার, ২৫ মে ২০২২, ০৩:১৫ পূর্বাহ্ন

চট্টগ্রামের তালিকাভুক্ত শীর্ষ সন্ত্রাসী ম্যাক্সন ভারতে গ্রেফতার।

প্রতিবেদকের নাম:
  • প্রকাশিত: সোমবার, ৭ ফেব্রুয়ারী, ২০২২
  • ৫৬ বার পড়া হয়েছে

ভারতে মাছ বিক্রেতা, ওমানে মিস্ত্রি- নাম পাল্টেও সন্ত্রাসী ম্যাক্সন গ্রেপ্তার!

চট্টগ্রামের তালিকাভুক্ত শীর্ষ সন্ত্রাসী ম্যাক্সন ভারতে গ্রেফতার।

রায়হান হোসাইন, বিভাগীয় প্রধান, চট্টগ্রামঃ-

চট্টগ্রামের অপরাধ জগতের এক সময়ের ত্রাস পুলিশের তালিকাভুক্ত শীর্ষ সন্ত্রাসী নূর নবী ওরফে ম্যাক্সন ওমানে পালিয়ে গিয়ে রং মিস্ত্রির কাজ করতেন। সেখানের নিজের পরিচয় ফাঁস হলে পালিয়ে আশ্রয় নেন ভারতের পশ্চিম বাংলার উত্তর চব্বিশ পরগনা এলাকায়। নাম পাল্টে তমাল চৌধুরীর ছদ্মনামে বেশ কিছুদিন ধরেই ওই এলাকায় বসবাস করে মাছের ব্যবসা করছিলেন ম্যাক্সন। এমনকি দালাল ধরে ভারতীয় নাগরিক হিসেবে পরিচয়পত্র এবং পাসপোর্টও যোগাড় করেছেন। এক ভারতীয় নারীকেও নিজের বন্ধু হিসেবে রাখতেন সাত হাজার টাকার ভাড়া করা ফ্ল্যাটে।

নাম ঠিকানা পাল্টালেও সেই ছদ্মবেশ তাকে বেশি দিন রক্ষা করতে পারেনি। দেশ থেকে পালিয়ে কাতার ও ভারতে পালিয়ে থাকলেও শেষ পর্যন্ত কলকাতা পুলিশের হাতে গ্রেপ্তার হতে হয়েছে চট্টগ্রামের শীর্ষ সন্ত্রাসী নূর নবী ওরফে ম্যাক্সনকে।

গত শুক্রবার (৪ ফেব্রুয়ারি) ভারতের পশ্চিম বাংলার উত্তর চব্বিশ পরগনার ডানলপ এলাকা থেকে ম্যাক্সনকে গ্রেপ্তার করেছে সেখানকার সিআইডি পুলিশ।

ভারতীয় পুলিশ জানিয়েছে, ম্যাক্সনের বিরুদ্ধে সিএমপির পাঁচলাইশ থানা, বায়োজিদ বোস্তামি থানা, চান্দগাঁও থানায় ২১টি মামলা রয়েছে, তার মধ্যে ১১টিতে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি আছে। নুর নবী ওরফে ম্যাক্সন বাংলাদেশ থেকে পালিয়ে ওমান চলে যায়। সেখানে রং মিস্ত্রির কাজ করতেন। কিন্তু বছর কয়েক আগে ওখানে তার সঙ্গী সরোয়ার হোসেন ওরফে সারোয়ার ধরা পড়ার পর ওমান এয়ারপোর্ট থেকে পালিয়ে যায় ম্যাক্সন। প্রথম লকডাউনের সময়ে তিনি চলে যান কলকাতায় নিউ মার্কেট এলাকায়। এখানে এসে নাম বদলে তমাল চৌধুরী নাম নিয়ে থাকতে শুরু করেন। নিউ মার্কেটে মাছ বিক্রি করতেন তিনি।

গত শুক্রবার উত্তর চব্বিশ পরগনার ডানলপ এলাকা থেকে গ্রেপ্তারের পর সিআইডির জেরায় চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে আসে। মাধ্যমগ্রামে এক মহিলার সঙ্গে তার পরিচয় হয়। ওই মহিলার সঙ্গে লিভ ইন করত পর বি টি রোডের ডানলপ এলাকায় সাত হাজার টাকা ভাড়া বাসায়। গ্রেপ্তারের সময় তার কাছ থেকে উদ্ধার হয়েছে নগদ টাকা, পাসপোর্ট ( তমাল চৌধুরী নামে ), ভোটার কার্ড, প্যান কার্ড, আধার কার্ড-সহ একাধিক নথি। তার ভারতীয় পাসপোর্টটির ২০২১ সালের ১৫ জুলাই থেকে ২০৩১ সালের ১৪ জুলাই পর্যন্ত মেয়াদ ছিল।

ভারতীয় পুলিশ জানায়, ম্যাক্সনের বিরুদ্ধে ভারতে অনুপ্রবেশ, বেআইনিভাবে বসবাস এবং জালিয়াতির মাধ্যমে কাগজপত্র তৈরির অভিযোগ আনা হয়েছে। তার ব্যাপারে কলকাতার ভারতীয় দূতাবাসের মাধ্যমে বাংলাদেশের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গেও যোগাযোগ রাখা হচ্ছে।

বায়েজিদ বোস্তামি থানার ওসি মো. কামরুজ্জামান বলেছেন, ‘ম্যাক্সনকে ভারতে গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত হয়েছি। এখন যথাযথ কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে তাকে দেশে ফিরিয়ে আনার প্রক্রিয়া শুরু হবে।’

চট্টগ্রামের বায়েজিদ থানাধীন জাহানপুর আলতাফ মিয়া বাড়ির আবদুল লতিফের ছেলে ম্যাক্সন। তাঁর বিরুদ্ধে ৫টি অস্ত্র মামলা ও ১৭টি চাঁদাবাজির মামলা রয়েছে। ২০১১ সালে একটি ডাকাতির মামলায় ব্রাহ্মণবাড়িয়া থেকে ম্যাক্সনকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে তাঁর দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে গ্রেপ্তার করা হয় সারোয়ারকে। তাঁদের কাছ থেকে উদ্ধার করা হয় একে-৪৭ সহ বিপুল পরিমাণ অস্ত্র। মূলত এর পরই আলোচনায় আসেন এই সন্ত্রাসী জুটি। ওই মামলায় ২০১৭ সালে জামিন পেয়ে কারগার থেকে বেরিয়ে কাতারে পালিয়ে যান তাঁরা।

সংবাদটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরো সংবাদ পড়ুন

আরো লেখাসমূহ

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত
প্রযুক্তি সহায়তায় ইয়োলো হোস্ট