1. multicare.net@gmail.com : সময়ের পথ :
বুধবার, ২৫ মে ২০২২, ০৩:৪৬ পূর্বাহ্ন

কালিয়ায় বড় ভাইয়ের বিরুদ্ধে ১৪৪ ধারা ভঙ্গ করে ছোট ভাইয়ের সম্পত্তিতে পাঁকাঘর নির্মানের অভিযোগ।

প্রতিবেদকের নাম:
  • প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ৩ ফেব্রুয়ারী, ২০২২
  • ৩৮ বার পড়া হয়েছে

কালিয়ায় বড় ভাইয়ের বিরুদ্ধে ১৪৪ ধারা ভঙ্গ করে ছোট ভাইয়ের সম্পত্তিতে পাঁকাঘর নির্মানের অভিযোগ।

মোঃ হাচিবুর রহমান,কালিয়া ( নড়াইল) প্রতিনিধিঃ

নড়াইলে কালিয়া উপজেলার নড়াগাতী থানার বাঐসোনা ইউনিয়নের দক্ষিন যোগানীয়া গ্রামের আজিজুল মোল্যার (৬৫) বিরুদ্ধে পৈত্রিক সম্পত্তিতে শরিকদের বঞ্চিত করে জোর পূর্বক পাঁকাঘর নির্মানের অভিযোগ করেছেন তারই আপন ভাই তাজিজুল হক মোল্যা। আজিজুল ও তাজিজুল ওই গ্রামের মৃত ছায়েন উদ্দিন মোল্যার ছেলে। এ ঘটনায় তাজিজুল হক তার বড় ভাই আজিজুল হকসহ ৪ জনকে আসামী করে গত বছরের অক্টোবর মাসের ১২ তারিখে নড়াইলের বিজ্ঞ অতিরিক্ত জেলা ম্যাাজিষ্ট্রেট আদালতে ১৪৪ ধারায় একটি ফৌজদারী মামলা দায়ের করেন, মামলা নং- ৩৭৩/২০২১ এবং বিজ্ঞ আদালত ১৮ অক্টোবর ওসি নড়াগাতীকে আর্জির কপি প্রদান করতঃ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহনের নির্দেশনা দেন। ওসি নড়াগাতীর নির্দেশনায় নভেম্বর মাসের ৮ তারিখে এসআই উত্তম কুমার ঘোষ বিষয়টি সরেজমিনে তদন্ত পূর্বক বাদীর বর্ণিত ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে একটি রিপোর্ট পেশ করেন।
০২ ফেব্রুয়ারী (বুধবার) বিকেলে সরেজমিনে গেলে ভূক্তভোগী তাজিজুল হক মোল্যা ও স্থাণীয়রা জানান, মৃত ছায়েন উদ্দিন মোল্যা উপজেলার যোগানীয়া মৌজায় এসএ খতিয়ান ১২৭, জরিপ খতিয়ান ২১৮২, সেঃ মেঃ দাগ ২৮৬৩ ও আরএস ৭৫৭৬ নং দাগে ১১৭ শতক জমির মধ্যে ৩৮ শতক জমিতে স্ত্রী, ৮ ছেলে ও ৩ মেয়েকে নিয়ে বসত করতেন। প্রায় ১৫ বছর পূর্বে ছায়েন উদ্দিনে মৃত্যুর পর তার ছেলেরা জায়গা স্বল্পতার কারণে পাশেই ব্যাক্তিগতভাবে জমি কিনে বাড়ী করেন এবং পৈত্রিক ভিটায় সায়েন উদ্দিনের বড় ছেলে আজিজুল মোল্যা তার মাসহ থেকে যান। ছায়েন উদ্দিনের মৃত্যুয়ান্তে পৈত্রিক ভিটার ওই জমি ৮ ভাই ও ৩ বোনেরা প্রাপ্য হিস্যা অনুযায়ী সীমানা নির্ধারন করে ভোগ করে আসছে বলে জানা যায়। কিন্তু বছর দুই পূর্বে তাদের মায়ের মৃত্যু হলে আজিজুল জানায় মায়ের অংশ তাকে লিখে দিয়েছে। এ ঘটনায় অপর ভাই ও বোনেরা মায়ের নিকট থেকে জোর করে লিখে নেওয়ার অভিযোগ এনে মামলা ও করেছেন, যাহা চলমান রয়েছে বলে ভূক্তভোগীরা জানান। এদিকে মায়ের মৃত্যুর অপর ভাইদের জায়গায় থাকা আজিজুলের টিনের ঘর অন্যত্র সরিয়ে নেওয়ার কথা থাকলেও আজকাল করে না সরিয়ে সেখানে পাঁকা বসতি স্থাপনের কাজ শুরু করলে তাজিজুল হক বিজ্ঞ আদালতে ১৪৪ ধরায় একটি ফৌজদারী মামলা করেন। কিন্তু ১৪৪ ধারা অমান্য করে আজিজুল নির্মানকাজ অব্যাহত রাখলে নড়াগাতী থানার নির্দেশনায় ১৮৮ ধারায় মামলার আবেদন করেন। মামলার তদন্ত ভার দেওয়া হয় নড়াগাতী থানা ও বাঐসোনা ইউনিয়ন ভুমি সহকারী কর্মকর্তা মোঃ হাবিবুর রহমান ওপর। নড়াগাতী থানার এসআই উত্তম কুমার ঘোষ বিষয়টি গত বছরের নভেম্বর মাসে সরেজমিনে তদন্ত করে রিপোর্ট পেশ করে পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহনের জন্য প্রেরণ করেন। এদিকে ৩১ জানুয়ারী ইউনিয়ন ভুমি সহকারী কর্মকর্তা মোঃ হাবিবুর রহমান তদন্ত করে এসেছেন, কিন্তু এখনো রিপোর্ট পেশ করেননি। ভূক্তভোগীরা আরো জানান, এই সমস্যা নিয়ে স্থাণীয় গণ্যমান্য ব্যাক্তিবর্গসহ বাঐসোনা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান এবং নড়াগাতী থানার সাবেক অফিসার ইন-চার্জ মোসাঃ রোকসানা খাতুনও শালিশ করেছেন। আজিজুল হক শালিসে সব কিছু মেনেও নেন। কিন্তু বাড়ীতে এসে তিনি সব কিছুই আস্বীকার করেন।
অভিযুক্ত আজিজুল মোল্যা জানান, পৈত্রিক ভিটায় আমার মায়ের অংশ ও অন্যান্য ভাই-বোনের অংশ আমি কিনে নিয়েছি। তবে অন্যান্য ভাই-বোনের অংশ আমার ঘরের মধ্যে থাকলে এওয়াজ বদল করে নিতে আমার কোন আপত্তি নাই।
বাঐসোনা ইউনিয়ন ভুমি সহকারী কর্মকর্তা মোঃ হাবিবুর রহমান বলেন, বাদীর অভিযোগের ভিত্তিতে অভিযোগের কাপিসহ বিজ্ঞ আদালত আমাকে তদন্তের নির্দেশনা দিয়েছেন। আমি সরেজমিনে যেটা পাব তাই রিপোর্ট করবো বলে জানান।

 

সংবাদটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরো সংবাদ পড়ুন

আরো লেখাসমূহ

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত
প্রযুক্তি সহায়তায় ইয়োলো হোস্ট