1. multicare.net@gmail.com : সময়ের পথ :
শনিবার, ১০ ডিসেম্বর ২০২২, ০১:৫৪ পূর্বাহ্ন
ব্রেকিং নিউজ :
আন্তর্জাতিক দুর্নীতি বিরোধী দিবস পালিত l বিভাগীয় প্রশাসন ও দুর্নীতি দমন কমিশন চট্টগ্রাম ১০ ই ডিসেম্বর আন্তর্জাতিক মানবাধিকার দিবস উপলক্ষে চট্টগ্রাম প্রেসক্লাবের সামনে শফিকুল ইসলাম পেলেন এফবিজেও এর সম্মাননা স্মারক গাজাসহ ২কারবারী আটক-র‌্যাব-৭,ফেনী ক্যাম্প। রামগড়ে হানাদার মুক্ত দিবস পালিত ডাকাতি প্রস্তুতিকালে অশ্রসহ আটক ৪-সদরঘাট থানা নওগাঁর মান্দায় সপ্তম শ্রেণীর শিক্ষার্থী ফাইনাল পরিক্ষার ৩য়দিনে অপহরণ জাতীয় শিক্ষা সপ্তাহ আবৃত্তি প্রতিযোগীতায় প্রথম স্থান লাভ করেন জান্নাতুল মাওয়া। নওগাঁর মান্দায় ফকিন্নী নদী পুনঃখনন কাজের উদ্বোধন বগুড়া শান্তাহারে মানবিক সাহায্য সংস্থা নামের এনজিও কিস্তি না পেয়ে,মাথা ফাটিয়ে ক্যাসবক্স থেকে টাকা ছিনতাই

নওগাঁয় সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক গফুরের বিরুদ্ধে অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ

প্রতিবেদকের নাম:
  • প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১১ আগস্ট, ২০২২
  • ৫৫ বার পড়া হয়েছে

নওগাঁয় সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক গফুরের বিরুদ্ধে অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ

এ.বি.এম.হাবিব- নওগাঁ সদর উপজেলার হাঁসাইগাড়ী ইউনিয়নের কাঁকনসী সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ে নীতিমালা লঙ্ঘন করে ম্যানেজিং কমিটি গঠনসহ নানা অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে প্রধান শিক্ষক আব্দুল গফুরের বিরুদ্ধে।

শিক্ষকতার পাশাপাশি প্রভাবশালী ঠিকাদার হওয়ায় ক্ষমতার দাপটে বিদ্যালয়ে প্রায়ই অনুপস্থিত থাকেন তিনি। রুটিনে থাকা ক্লাস গুলো তার পরিবর্তে অনভিজ্ঞ বেকার যুবকদের দিয়ে করানো হয়। এতে নষ্ট হতে বসেছে বিদ্যালয়টির শিক্ষার পরিবেশ।

বিষয়টি নিয়ে জেলা শিক্ষা প্রাথমিক কর্মকর্তা বরাবর লিখিত অভিযোগ দিলেও এখনো ব্যবস্থা নেয়া হয়নি। অভিযুক্ত প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহনের মাধ্যমে বিদ্যালয়টির শিক্ষার পরিবেশ দ্রুত ফিরিয়ে আনার দাবী জানিয়েছেন স্থায়ীরা।

সরেজমিনে জানা যায়, নওগাঁ সদর উপজেলার হাঁসাইগাড়ী ইউনিয়নের কাঁকনসী গ্রামে কাঁকনসী সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠা করা হয় ১৯৭২ সালে। বিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠা করায় কাঁকনসী, ভীমপুর, চকমহাদেব, চকগোপালসহ আশেপাশের ৫ থেকে ৬টি গ্রামের শিক্ষার্থীরা প্রাথমিক শিক্ষার আওতায় আসতে পেরেছে। ১৯৮৯ সালের ১ এপ্রিল বিদ্যালয়টিতে সহকারী শিক্ষক হিসেবে যোগদান করেন সদর উপজেলার দুবলহাটি ইউনিয়নের ফতেহপুর গ্রামের বাসিন্দা আব্দুল গফুর। যোগদানের ২৪ বছর পর ২০১৩ সালের ১২ ডিসেম্বর প্রধান শিক্ষক হিসেবে পদোন্নতি পান তিনি। নীতিমালা অনুযায়ী সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ে কর্মরত কোন শিক্ষকের ঠিকাদারী কাজে সম্পৃক্ত থাকার নিয়ম নেই। তবে এই নিয়মকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়েছেন আব্দুল গফুর। সুকৌশলে স্ত্রীর নামে করিয়েছেন বরেন্দ্র বহুমুখী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (বিএমডিএ) সরকার নিবন্ধিত ঠিকাদারি লাইসেন্স। কয়েক বছরের মধ্যেই হয়েছেন বিএমডিএ’র প্রভাবশালী ঠিকাদার। শহরের বেশিরভাগ ব্যবসায়ী তাকে শিক্ষক হিসেবে নয়, চেনেন ঠিকাদার গফুর হিসেবেই। ব্যবসায়িক কাজে ব্যস্ততার কারনে নিয়মিত বিদ্যালয়ে যান না তিনি। কখনো বিদ্যালয়ে গেলেও সময়মত পৌঁছানোর রেকর্ড খুবই কম। নিয়মিত বিদ্যালয়ে যেতে না পারায় তার রুটিনে থাকা ক্লাসগুলো বাহিরের এসএসসি ও এইএচএসসি পাশ করা বিভিন্ন বেকার অনভিজ্ঞ ছেলেদের দিয়ে করানো হয়। প্রভাবশালী ঠিকাদার হওয়ায়ই কেউ তার বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করলেও কর্ণপাত করেন না। প্রতি বছর বিদ্যালয়ের বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কাজে সরকারীভাবে আসা বরাদ্দকৃত অর্থ সুকৌশলে আত্মসাত করেন তিনি। নিজের ইচ্ছেমত। বিদ্যালয় পরিচালনায় যাতে কেউ বাঁধা হয়ে না দাঁড়াতে পারে, সেজন্য বিদ্যালয়ের অভিভাবক সদস্যদের না জানিয়ে সম্পূর্ণ অবৈধভাবে ম্যানেজিং কমিটি গঠন করেছেন তিনি। যেখানে নাটোর জেলা সমবায় কার্যালয়ে সরেজমিনে তদন্তকারী কর্মচারী হিসেবে কর্মরত আব্দুল হান্নানকে সভাপতি করা হয়েছে। যা সরকারী নীতিমালা অনুযায়ী সম্পূর্ণ নিয়ম বহির্ভূত এবং বে-আইনী। আব্দুল হান্নানকে সভাপতি দেখিয়ে বিভিন্ন রেজুলেশন তৈরী করে বিদ্যালয় সংস্কারে চাহিদাপত্র পাঠিয়ে বরাদ্দকৃত অর্থ আত্মসাত করছেন প্রধান শিক্ষক। দীর্ঘদিন যাবত বিদ্যালয়টি এভাবে চলতে থাকায় বাকী ৩ জন সহকারী শিক্ষকও এখন সময়মতো বিদ্যালয়ে আসেন না। শিক্ষার্থীরা স্কুলে এসে সময়মত শিক্ষকদের না পাওয়ায় পড়ালেখার আগ্রহ হারাতে বসেছে। এতে প্রতি বছর ঝড়ে পড়ছে অসংখ্য শিক্ষার্থী।

যার কারণে এর প্রতিকার চেয়ে গত (১৮ জুলাই) জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা বরাবর লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন ওই এলাকাবাসী।
কাঁকনসী গ্রামের বাসিন্দা আমিনুল ইসলাম বলেন, প্রধান শিক্ষক মাসে দু-একবার বিদ্যালয়ে আসেন। তাহলে এখানে পড়ালেখা ঠিকভাবে হবে কিভাবে। উনি তো শিক্ষক নয়, উনি একজন ঠিকাদার। এলাকার বিভিন্ন বেকার ছেলেদের মাসে দুই থেকে তিন হাজার টাকা বেতন দিয়ে তিনি তার পরিবর্তে স্কুলের ক্লাস করান। রাজমিস্ত্রীকে দিয়েও এখানে ক্লাস করানো হয়েছে। তিনি বলেন, তার মেয়ে প্রথম শ্রেণীতে পড়ছে। এখানে শিক্ষার পরিবেশ নষ্ট হয়ে গেছে। তাই মেয়েকে এই স্কুলে পাঠিয়ে প্রতিনিয়ত শঙ্কায় থাকেন তিনি।
একই গ্রামের আব্দুর রশিদ, ময়েন উদ্দিন, শাহীনুর রহমানসহ অনেকেই বলেন, প্রভাবশালী ঠিকাদার হওয়ায় প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে তারা কেহই প্রতিবাদ করতে পারেন না। নাটোর সমবায় অফিসের এক কর্মচারীকে ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি বানিয়ে তিনি বিদ্যালয় সংস্কারে বরাদ্দকৃত টাকা প্রতিনিয়ত আত্মসাত করে চলছেন। অভিভাবক সদস্য, এলাকাবাসী কাওকেই তিনি কমিটি গঠনের বিষয়টি জানান নি। স্বপরিবারে নাটোরে থাকা সভাপতির ছেলেকে এই বিদ্যালয়ে ছাত্রত্ব দেখিয়েছে। গ্রামে তারা খুবই কম আসেন। অথচ তার ছেলেকে বিদ্যালয়ের হাজিরা খাতায় উপস্থিত দেখানো হয়। বিদ্যালয়টির শিক্ষার পরিবেশ ফিরিয়ে আনতে অবৈধ সভাপতিকে প্রত্যাহার এবং প্রধান শিক্ষকের অনিয়ম ক্ষতিয়ে দেখে তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহনের দাবী জানান তারা।
এবিষয়ে অভিযুক্ত প্রধান শিক্ষক আব্দুল গফুর বলেন, ম্যানেজিং কমিটিতে কে সভাপতি হবেন, সেটা এখানকার রাজনৈতিক নেতারা নির্বাচন করে দেন। এখানে আমার হস্তক্ষেপের কোন সুযোগ নেই। আমার জানা মতে সরকারী অফিসে চাকুরী করলেও সভাপতি হওয়া যায়। নিয়ম মেনেই সঠিকভাবে কমিটি গঠন করা হয়েছিল। আমার রুটিনে থাকা ক্লাসগুলো কখনোই অন্যজনকে দিয়ে করানো হয়নি। সঠিক সময়ে বিদ্যালয়ে উপস্থিত হয়ে নিজেই ক্লাসগুলো নিয়েছি। আমার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগগুলো সঠিক নয়।
শিক্ষকতার পাশাপশি ঠিকাদারী করার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমার বিএমডিএর ঠিকাদারী লাইসেন্স রয়েছে এটা সঠিক। তবে সেটা আমার স্ত্রীর নামে। আমি শুধু কাজগুলো মাঝেমধ্যে দেখভাল করি। নিজের নামে যেহেতু লাইসেন্স নেই, সেহেতু চাকুরীতে এই লাইসেন্সের কোন প্রভাব পড়বে না বলে মনে করেন তিনি।
সদর উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা ইতিয়ারা পারভীন বলেন, বিদ্যালয়টির প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে আনা অনিয়মের অভিযোগ তদন্ত করে দেখতে ৩ সদস্য বিশিষ্ট একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। আগামী ১০ কার্যদিবসের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিতে নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। তদন্তে যেটা সঠিক সেটাই তুলে ধরা হবে বলে জানান তিনি।
নওগাঁ জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা সিদ্দীক মোহাম্মদ ই

সংবাদটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরো সংবাদ পড়ুন

আরো লেখাসমূহ

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত
প্রযুক্তি সহায়তায় ইয়োলো হোস্ট